২০২৬ সালের মে মাসের অন্যতম আলোচিত রিলিজ Samsung Galaxy S26 Plus। নতুন ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর আর এআই ক্যামেরার যুগলবন্দী কেমন পারফর্ম করছে? জানুন বিস্তারিত।
স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের ‘প্লাস’ ভ্যারিয়েন্টগুলো সবসময়ই একটু ভিন্ন জায়গায় থাকে। যারা বেস মডেলের চেয়ে বড় স্ক্রিন চান, আবার আল্ট্রা মডেলের মতো অতিরিক্ত ওজন বা আকাশচুম্বী দাম এড়াতে চান, তাদের জন্য এই প্লাস সিরিজ।
মে ২০২৬-এর এই সময়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন Samsung Galaxy S26 Plus। বিশেষ করে এর ভেতরের ২ ন্যানোমিটার চিপসেট এবং একদম নতুন প্রসেসর আর্কিটেকচার নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। বেশ কিছুদিন ফোনটি গভীরভাবে ব্যবহারের পর আজ আমরা এর প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
১. প্রসেসর ও পারফরম্যান্স: ২ ন্যানোমিটারের এক নতুন দিগন্ত
Galaxy S26 Plus-এর মূল শক্তি লুকিয়ে আছে এর প্রসেসরে। স্যামসাং এই ফোনে ব্যবহার করেছে তাদের নিজস্ব তৈরি প্রথম Exynos 2600 চিপসেট (কিছু গ্লোবাল রিজিয়নে Snapdragon 8 Elite Gen 5 দেওয়া হয়েছে)। এটি মোবাইল ইতিহাসের অন্যতম প্রথম প্রসেসর যা 2nm (ন্যানোমিটার) আর্কিটেকচার প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এই আপগ্রেডের কারণে চিপসেটের ট্রানজিস্টরগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি থাকে। ফলে প্রসেসিং স্পিড বাড়ার পাশাপাশি ব্যাটারি খরচ কমে গেছে প্রায় ১৫%। সাধারণ স্ক্রোলিং, ফেসবুকিং বা ভারী মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ফোনটি মাখনের মতো মসৃণ চলে। ১০-১২টি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখেও কোনো ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ আমাদের চোখে পড়েনি।
গেমিং টেস্ট: আমরা এতে Genshin Impact এবং Warzone Mobile এর মতো হেভি গ্রাফিক্সের গেম সর্বোচ্চ সেটিংসে খেলেছি। নতুন AMD Radeon ভিত্তিক GPU এর কারণে গ্রাফিক্সের ডিটেইলিং ছিল দেখার মতো। তবে টানা ৪৫ মিনিট গেমিংয়ের পর ক্যামেরার চারপাশের অংশে কিছুটা উষ্ণতা অনুভব করা যায়, যা যেকোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।
২. ক্যামেরা রিভিউ: হার্ডওয়্যারের সাথে প্রো-ভিজ্যুয়াল ইঞ্জিনের মেলবন্ধন
স্যামসাং এবার মেগাপিক্সেলের সংখ্যা না বাড়িয়ে ছবির কোয়ালিটি এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের দিকে বেশি নজর দিয়েছে। এর ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপে আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচিউর কালার টোন পাওয়া যায়।
| লেন্স টাইপ | স্পেসিফিকেশন | বাস্তব পারফরম্যান্স |
|---|---|---|
| প্রধান ক্যামেরা | 50 MP, f/1.8, OIS | দিনের আলোতে চমৎকার ডায়নামিক রেঞ্জ এবং নিখুঁত শার্পনেস। |
| টেলিফটো লেন্স | 10 MP, f/2.4, 3x Optical Zoom | পোর্ট্রেট ছবির জন্য অসাধারণ। এজ ডিটেকশন বেশ নিখুঁত। |
| আল্ট্রাওয়াইড | 12 MP, f/2.2, 120° | ল্যান্ডস্কেপ শটের কর্নারগুলোতে কোনো বিকৃতি বা ব্লার আসে না। |
| সেলফি充 ক্যামেরা | 12 MP, Dual Pixel | স্কিন টোনকে কৃত্রিমভাবে ফর্সা না করে একদম ন্যাচারাল রাখে। |
ProVisual Engine ও Nightography: কম আলোতে ছবি তোলার জন্য এর নতুন এআই ভিত্তিক নাইটোগ্রাফি মোড এক কথায় দারুণ। প্রসেসরের শক্তিশালী NPU ছবি তোলার সাথে সাথেই ব্যাকগ্রাউন্ডের নয়েজ ক্লিন করে ফেলে, ফলে রাতের ছবিগুলোও অনেক প্রাণবন্ত দেখায়।
৩. ডিসপ্লে, ব্যাটারি এবং চার্জিং স্পিড
এতে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির Dynamic LTPO AMOLED 2X ডিসপ্লে, যা ১Hz থেকে ১২০Hz পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট অটো-অ্যাডজাস্ট করতে পারে। এর ২৬০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে কড়া রোদের মধ্যে দাঁড়িয়েও স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হয় না। সিনেমা বা ওটিটি কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ।
ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 4900 mAh এর ব্যাটারি। নতুন ২ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের চিপসেটের কারণে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ দারুণ। সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে দেড় দিন এবং হেভি ইউজেও ১ দিন পার হয়ে যাবে। তবে চার্জিং স্পিড এখনও ৪৫ ওয়াটেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা এই বাজেটের ফোনে কিছুটা হতাশাজনক। শূন্য থেকে ১০০% চার্জ হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে।
Samsung Galaxy S26 Plus এর বর্তমান দাম (মে ২০২৬)
বাজার এবং ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। মে ২০২৬-এর বর্তমান বাজার দর নিচে দেওয়া হলো:
- আমেরিকা (Global Market): $১,০৯৯ ডলার (১২ জিবি র্যাম / ২৫৬ জিবি স্টোরেজ)
- ভারত: প্রায় ১,১৯,৯৯৯ রুপি থেকে শুরু।
- বাংলাদেশ (আনুমানিক): বিটিআরসি অনুমোদিত এবং আনঅফিসিয়াল চ্যানেলভেদে ফোনটি ১,৪৫,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এক নজরে ভালো ও মন্দ দিক
- ২ ন্যানোমিটার চিপের কারণে দুর্দান্ত ব্যাটারি লাইফ ও পারফরম্যান্স।
- এআই বেসড ফটো এবং ভিডিও এডিটিং টুলস বেশ নিখুঁত।
- ৭ বছরের জন্য বড় অ্যান্ড্রয়েড ও সিকিউরিটি আপডেট পলিসি।
- দিনের আলো এবং ইনডোরে দারুণ ক্যামেরা ডাইনামিক রেঞ্জ।
- ৪৫ ওয়াটের ধীরগতির চার্জিং স্পিড (বক্সে চার্জার নেই)।
- ডিজাইনে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই।
