DNS Server কী? কেন এবং কীভাবে মোবাইলের ডিএনএস পরিবর্তন করবেন?

0 Mizanur Rahman

ডিএনএস (DNS) সার্ভার কী? ইন্টারনেটের স্পিড বাড়ানোর গোপন ট্রিক!

ইন্টারনেটের স্পিড নিয়ে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ধরুন, আপনি ব্রাউজারে টাইপ করলেন google.com বা facebook.com, কিন্তু পেজটা ঘুরছে তো ঘুরছেই। অথচ আপনার ওয়াইফাই বা মোবাইলের ডেটা কানেকশন একদম ফুল স্পিডে আছে। মেজাজটা কেমন খারাপ হয় বলুন তো? আমরা অনেকেই ভাবি এটা মনে হয় ইন্টারনেট প্রোভাইডার বা আইএসপির (ISP) দোষ। কিন্তু অনেক সময়ই আসল অপরাধী থাকে নেপথ্যের একটা নীরব সিস্টেম, যার নাম DNS বা Domain Name System

আজকে একদম সহজ বাংলায়, কোনো জটিল টেকনিক্যাল শব্দ ছাড়া বুঝিয়ে বলব এই DNS আসলে কী, এটা কীভাবে আপনার ইন্টারনেটের স্পিড বাড়িয়ে দিতে পারে, আর আমার নিজের ব্লগিং ও টেক লাইফের অভিজ্ঞতা থেকে এমন কিছু ট্রিক শেয়ার করব যা সচরাচর কেউ বলে না।


ডিএনএস আসলে কী? একটু সহজ করে বোঝা যাক

কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা যেকোনো সার্ভার কিন্তু আমাদের মুখের ভাষা বোঝে না। তারা চেনে শুধু সংখ্যা, যেটাকে আমরা আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) বলি। যেমন ধরুন, কোনো একটা ওয়েবসাইটের আইপি হতে পারে 172.217.166.110

এখন একটু ভাবুন, ইন্টারনেটে প্রতিদিন আমরা শত শত ওয়েবসাইট ভিজিট করি। যদি আপনাকে বলা হতো ফেসবুক ব্রাউজ করতে হলে 157.240.16.35 টাইপ করতে হবে, আর ইউটিউবের জন্য অন্য একটা বড় সংখ্যা মনে রাখতে হবে—তাহলে কি ইন্টারনেটের এই যুগে এসে আপনি মাথায় এত নম্বর মনে রাখতে পারতেন? অসম্ভব!

আমরা মনে রাখি সহজ নাম, যেমন gyanbanglatech.com। আর কম্পিউটার খোঁজে নম্বর। এই মানুষ আর কম্পিউটারের মাঝখানে যে দোভাষী বা মিডলম্যান হিসেবে কাজ করে, সেটাই হলো DNS Server

সহজ একটা উদাহরণ দিই। আমাদের ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্টের কথা চিন্তা করুন। আপনি যখন আপনার বন্ধু 'রনি'কে ফোন দিতে যান, আপনি কিন্তু তার ১০-১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বরটা মুখস্থ ডায়াল করেন না। আপনি কন্ট্যাক্ট লিস্টে গিয়ে 'Rony' নামটা সার্চ করেন আর কল বাটনে চাপ দেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোন কিন্তু ওই নামের ভেতরে সেভ থাকা নম্বরটাটিতে কল দেয়।

ডিএনএস সার্ভার হলো পুরো ইন্টারনেটের একটা বিশাল 'ফোনবুক'। আপনি যখনই ব্রাউজারে কোনো ওয়েবসাইটের নাম লেখেন, ব্রাউজার সাথে সাথে ছুটে যায় ডিএনএস সার্ভারের কাছে আর জিজ্ঞেস করে, "ভাই, এই নামের আইপি নম্বরটা কত?" ডিএনএস সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে নম্বরটা খুঁজে এনে ব্রাউজারকে দেয়, আর আপনার সামনে ওয়েবসাইটটি ওপেন হয়।


ব্যাকগ্রাউন্ডে কী ঘটে? (খুব সংক্ষেপে মজার একটা যাত্রা)

আমরা যখন কোনো লিংকে ক্লিক করি, তখন চোখের পলকে ৪টি প্রধান সার্ভারের মধ্যে একটা চেইন বিক্রিয়া ঘটে। আমি যখন প্রথম নেটওয়ার্কিং নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন এই প্রসেসটা জেনে বেশ অবাক হয়েছিলাম। দেখুন কীভাবে কাজটা হয়:

  • DNS Recursor: এটাকে ধরতে পারেন আপনার পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট। ব্রাউজার প্রথমে একেই গিয়ে ধরে। সে তখন ইন্টারনেটের অন্যান্য সার্ভারে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে আইপিটা খোঁজার জন্য।
  • Root Nameserver: এটা হলো ইন্টারনেটের প্রধান লাইব্রেরি। এর কাছে সরাসরি কোনো ওয়েবসাইটের আইপি থাকে না, কিন্তু সে জানে ডট কম (.com) বা ডট নেট (.net) বা ডট বিডি (.bd) এর খাতাগুলো কোথায় আছে।
  • TLD Nameserver: Top Level Domain সার্ভার। যেমন আপনি যদি .com কোনো সাইট খোঁজেন, তবে রুট সার্ভার আপনাকে পাঠাবে এই TLD সার্ভারে। এর কাছে শুধু .com ডোমেইনগুলোর সব হিসাব-নিকাশ থাকে।
  • Authoritative Nameserver: এটা হলো শেষ গন্তব্য। এই সার্ভারের কাছেই মূলত আসল আইপি অ্যাড্রেসটি নিখুঁতভাবে সেভ করা থাকে। এখান থেকে আইপি নম্বরটা নিয়ে রিসার্সার আবার আপনার ব্রাউজারে ফেরত আসে।

আপনার মনে হতে পারে, এত জায়গায় ঘুরতে তো অনেক সময় লাগার কথা! কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এই পুরো ঘটনাটি ঘটতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিলি-সেকেন্ড (ms)।


সচরাচর কেউ বলে না: আমার অভিজ্ঞতায় দেখা ২টি আসল ইনসাইট

ইন্টারনেটে ডিএনএস নিয়ে হাজারটা আর্টিকেল পাবেন, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে আমরা যারা সারাদিন এগুলো নিয়ে কাজ করি, তারা কিছু অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করি। এই দুটো পয়েন্ট একটু ভালো করে মাথায় রাখুন:

১. লোকাল ক্যাশ মেমোরির ফাঁদ (The DNS Cache Trap)

অনেক সময় দেখা যায় একটা ওয়েবসাইট হুট করে ডাউন হয়ে গেছে বা কাজ করছে না। কিছুক্ষণ পর সাইটের মালিক সেটা ঠিক করলেন এবং বাকি সবাই সাইটটি দেখতে পারছে। কিন্তু আপনি আপনার ফোন বা ল্যাপটপ থেকে বারবার চেষ্টা করেও দেখছেন সেই পুরোনো এরর মেসেজটাই আসছে।

এখানেই মানুষ ভুলটা করে। তারা delicacy ভাবে ইন্টারনেট স্লো বা সাইট এখনো ঠিক হয়নি। আসলে ঘটনা অন্য। আপনার ডিভাইস বা আপনার ব্রাউজার বারবার ওই সাইটের আইপি ডিএনএস সার্ভার থেকে খোঁজার ঝামেলা এড়াতে নিজের মেমোরিতে (Cache) আগের আইপিটা সেভ করে রাখে। যেহেতু সাইটটি মাঝে ডাউন হয়েছিল বা আইপি পরিবর্তন হয়েছে, আপনার ডিভাইস ওই পুরোনো ভুল আইপিটাতেই নক করছে।

আমার সমাধান: এই অবস্থায় আইএসপিকে গালি না দিয়ে সরাসরি আপনার ব্রাউজারের ক্যাশ ক্লিয়ার করুন অথবা কমান্ড প্রম্পটে গিয়ে ipconfig /flushdns কমান্ডটি দিন (উইন্ডোজের ক্ষেত্রে)। ফোনের ক্ষেত্রে একবার এয়ারপ্লেন মোড অন-অফ করলে বা ক্রোম ব্রাউজারের chrome://net-internals/#dns থেকে ক্যাশ ক্লিয়ার করলে নিমিষেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

২. ফ্রি ফ্রি পাবলিক ডিএনএস ব্যবহারের গোপন কুফল

সবাই চোখ বন্ধ করে গুগলের ডিএনএস (8.8.8.8) বা ক্লাউডফ্লেয়ারের ডিএনএস (1.1.1.1) ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। হ্যাঁ, এগুলো দারুণ এবং সিকিউর। কিন্তু বাংলাদেশে একটা বাস্তব সমস্যা আমি লক্ষ্য করেছি।

আমাদের দেশের অনেক লোকাল আইএসপি (ISP) তাদের নিজস্ব কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (CDN) বা লোকাল ক্যাশ সার্ভার (যেমন YouTube, Facebook, বা BDIX মুভি সার্ভার) মেইনটেইন করে। আপনি যখন আপনার রাউটারে গ্লোবাল কোনো ডিএনএস (যেমন ক্লাউডফ্লেয়ার) সেট করে দেন, তখন অনেক সময় ওই গ্লোবাল সার্ভার বুঝতে পারে না আপনার সবচেয়ে কাছের লোকাল ক্যাশ সার্ভার কোনটা। ফলে দেখা যায়, বিডিআইএক্স (BDIX) এর যে মুভি বা ফাইল আপনার ১ সেকেন্ডে ডাউনলোড হওয়ার কথা ছিল, সেটা গ্লোবাল রুট ঘুরে আসার কারণে স্পিড ড্রপ করছে।

তাই চোখ বন্ধ করে সবার পরামর্শে ডিএনএস চেঞ্জ করবেন না। আগে দেখুন আপনার লোকাল আইএসপির নিজস্ব ডিএনএস কেমন পারফর্ম করছে।


ডিএনএস সার্ভার পরিবর্তন কেন করবেন? (লাভ-ক্ষতির হিসাব)

ডিফল্টভাবে আপনি যখন কোনো ইন্টারনেট কানেকশন নেন, তখন আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডার (ISP) নিজস্ব একটা ডিএনএস সেট করে দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের লোকাল আইএসপিগুলোর ডিএনএস সার্ভার বেশ দুর্বল ও ধীরগতির হয়। যার কারণে নিচের সমস্যাগুলো পোহাতে হয়:

  • স্লো ব্রাউজিং: ফেসবুকে ছবি লোড হতে দেরি হওয়া, বা সাইট ওপেন হতে শুরুতে কয়েক সেকেন্ড আটকে থাকা।
  • সিকিউরিটির অভাব: কিছু খারাপ আইএসপি আপনার ডিএনএস কুয়েরি ট্র্যাক করে আপনি কোন কোন সাইটে যাচ্ছেন তার ডেটাবেজ তৈরি করতে পারে, যা আপনার প্রাইভেসির জন্য হুমকি।
  • সেন্সরশিপ বা সাইট ব্লক: অনেক সময় সরকারি নির্দেশনায় বা আইএসপির নিজস্ব পলিসির কারণে বিভিন্ন দরকারি সাইট ব্লক করা থাকে। ডিএনএস চেঞ্জ করলে এই ব্লকগুলো খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়।

নিচে আমি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নিরাপদ কয়েকটি ফ্রি পাবলিক ডিএনএস সার্ভারের একটা তালিকা দিচ্ছি, যা আপনি আপনার ফোন বা রাউটারে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন:

ডিএনএস প্রোভাইডার প্রাইমারি ডিএনএস (IPv4) সেকেন্ডারি ডিএনএস (IPv4) মূল ফোকাস বা সুবিধা
Cloudflare 1.1.1.1 1.0.0.1 সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং প্রাইভেসির জন্য সেরা।
Google Public DNS 8.8.8.8 8.8.4.4 অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, ডাউনটাইম নেই বললেই চলে।
Quad9 9.9.9.9 149.112.112.112 সাইবার অ্যাটাক এবং ম্যালওয়্যার ব্লক করার জন্য সেরা।
AdGuard DNS 94.140.14.14 94.140.15.15 কোনো অ্যাপ ছাড়াই ব্রাউজিংয়ের সময় বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ব্লক করে।

অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনে ডিএনএস পরিবর্তন করার প্র্যাক্টিক্যাল নিয়ম

অনেকেই রাউটারের সেটিংস ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভয় পান। কোনো সমস্যা নেই, আপনি চাইলে সরাসরি আপনার মোবাইল ফোনে এই ডিএনএস বদলে নিতে পারেন। এখনকার মডার্ন ফোনগুলোতে এই ফিচারটা বিল্ট-ইন থাকে, যেটাকে Private DNS বা DNS-over-HTTPS (DoH) বলা হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য (Android 10 বা তার ওপরের ভার্সন):

  1. আপনার ফোনের Settings-এ যান।
  2. Connections বা Network & Internet অপশনে ক্লিক করুন।
  3. একটু নিচে স্ক্রোল করলে Private DNS নামের একটি অপশন পাবেন (না পেলে সেটিংসের সার্চ বারে "Private DNS" লিখে সার্চ করুন)।
  4. এটা সাধারণত 'Automatic' করা থাকে। আপনি Select Private DNS Provider Hostname অপশনটি সিলেক্ট করুন।
  5. এবার নিচের খালি বক্সে টাইপ করুন: one.one.one.one (Cloudflare এর জন্য) অথবা dns.google (Google এর জন্য)।
  6. সেভ করে দিন। ব্যাস, কাজ শেষ!

আইফোনের জন্য (iOS):

  1. Settings-এ গিয়ে Wi-Fi অপশনে যান।
  2. আপনার কানেক্টেড ওয়াইফাই নামের পাশে থাকা "i" (info) আইকনটিতে ট্যাপ করুন।
  3. নিচে স্ক্রোল করে Configure DNS অপশনে যান এবং এটিকে Manual সিলেক্ট করুন।
  4. Add Server-এ ক্লিক করে টাইপ করুন 1.1.1.1 এবং আবার অ্যাড করে দিন 1.0.0.1
  5. ওপরের ডান কোণা থেকে Save করে দিন।

*(নোট: আইফোনে মোবাইল ডেটার জন্য ডিএনএস পরিবর্তন করতে চাইলে সরাসরি অ্যাপ স্টোর থেকে Cloudflare এর '1.1.1.1' অ্যাপটি নামিয়ে ওয়ান-ক্লিক ভিপিএন মোডে চালাতে পারেন, ওটা বেশ কাজের।)*


আমার পরামর্শ (My Recommendation)

আমি নিজে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ডিএনএস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। অনেকেই গেম খেলার সময় পিং (Ping) কমানোর জন্য বা দ্রুত ডাউনলোডের জন্য ভিপিএন (VPN) অন করেন। ভিপিএন কিন্তু আপনার আইপি চেঞ্জ করে এবং পুরো ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে, যার ফলে অনেক সময় উল্টো স্পিড কমে যায়।

তাই আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো—আপনি যদি গেমার হন বা রেগুলার ব্রাউজিংয়ে একটু এক্সট্রা স্পিড ও সিকিউরিটি চান, তবে ভিপিএন ব্যবহার না করে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ক্লাউডফ্লেয়ারের (one.one.one.one) প্রাইভেট ডিএনএস হোস্টনেমটি সেট করে দিন। এতে আপনার আইপি বা লোকেশন চেঞ্জ হবে না, কিন্তু রিকোয়েস্ট রেসপন্স টাইম বা পিং অনেকটাই কমে যাবে।

আর আপনার বাসায় যদি ছোট বাচ্চা থাকে এবং আপনি চান তারা যেন কোনো অ্যাডাল্ট বা ম্যালওয়্যার সাইটে প্রবেশ করতে না পারে, তবে আপনার হোম রাউটারে Cloudflare Family DNS (1.1.3 এবং 1.0.0.3) সেট করে দিতে পারেন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ক্ষতিকর সাইট ব্লক করে রাখবে।


অতিরিক্ত বোনাস: মোবাইল হটস্পট স্লো হলে যা অনেকেই খেয়াল করেন না!

যেহেতু আমরা ইন্টারনেট ও স্পিড নিয়ে কথা বলছি, তাই এই বোনাস টিপসটা শেয়ার না করে পারলাম না। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ফোন থেকে ল্যাপটপ বা অন্য ফোনে হটস্পট শেয়ার করে ইন্টারনেট চালান। কিন্তু প্রায়ই কমপ্লেন শোনা যায় যে, "ভাই, ফোনে স্পিড ভালো থাকলেও হটস্পট দিয়ে কানেক্ট করলে নেট একদম স্লো হয়ে যায়।"

অন্যান্য টেক ব্লগে সাধারণত আপনাকে বলবে—ডিভাইস রিস্টার্ট দিন, পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করুন বা দূরত্ব বজায় রাখুন। কিন্তু আসল ট্রিকটা কিন্তু এখানে না। কম্পিটিটররা যে টেকনিক্যাল পয়েন্টটা একদমই এড়িয়ে যায়, সেটা হলো Wi-Fi Band Selection এবং AP Band-এর চ্যানেল ওভারল্যাপিং।

আপনার ফোনের হটস্পট সেটিংসে গেলে AP Band বা Band নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে সাধারণত দুটি অপশন থাকে: 2.4 GHz এবং 5 GHz

ডিফল্টভাবে সব ফোনে 2.4 GHz সিলেক্ট করা থাকে। সমস্যা হলো, আমাদের আসেপাশের সব রাউটার, ব্লুটুথ ডিভাইস, এমনকি মাইক্রোওয়েভ ওভেনও এই একই ২.৪ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। ফলে সিগন্যালে মারাত্মক জ্যাম বা ইন্টারফেয়ারেন্স তৈরি হয়।

আপনি যদি আপনার হটস্পট সেটিংস থেকে ব্যান্ডটি পরিবর্তন করে 5 GHz করে দেন, তাহলে সিগন্যালের জ্যাম একদম কেটে যাবে এবং আপনি আপনার মূল ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ স্পিড পাবেন (তবে শর্ত একটাই, যে ডিভাইসটি কানেক্ট করছেন সেটাতেও ৫ গিগাহার্জ ওয়াইফাই সাপোর্ট থাকতে হবে)। এর সাথে ফোনের Private DNS অন থাকলে তো কথাই নেই, হটস্পটেও পাবেন রকেট স্পিড!

তাহলে আর দেরি কেন? এখনই আপনার ফোনের সেটিংসটা একটু চেক করে নিন। কোনো ধাপে আটকে গেলে বা বুঝতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানাতে পারেন, আমি আছি উত্তর দেওয়ার জন্য। আজ এই পর্যন্তই, দেখা হবে পরের কোনো টেক আড্ডায়!

Mizanur Rahman

Author: Mizanur Rahman

স্বাগতম! আমি মিজানুর রহমান, জ্ঞান বাংলা টেক (Gyan Bangla Tech)-এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি দীর্ঘ ৩ বছর ধরে টেকনোলজি, এসইও (SEO), নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন এবং মোবাইল ট্রাবলশুটিং নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত প্রযুক্তির জটিল বিষয়গুলো সহজ ও সরল ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি।

আমার সাথে যুক্ত হন:

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

About Us

We provide the latest technology tips, blogging guides, internet solutions, and tutorials to help users learn, grow, and solve everyday digital problems easily.